মুহুরী রিপোর্ট :
ফেনীতে এখনো ফ্যাসিস্ট ইসমাইল বহাল তবিয়াতে রয়েছেন। ৪ আগস্ট মহিপালে গণহত্যার দায়ে ফ্যাসিবাদের দোষররা বেশির ভাগ পালিয়ে গেলেও ইসমাইল এখনো দৃশ্যমান রয়েছে। সেই বিভিন্নভাবে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর সারা দেশের মত ফেনীতে ও ফ্যাসিষ্ট সকারের বেশিরভাগ নেতা কর্মি ও দোষরেরা পালিয়ে গেলেও তাদের কেউ কেউ বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতাকে ম্যানেজ করে। যাদের একজন হচ্ছে জেল রোডস্থ পুরাতন জেল গেইটের পাশে দিদার পুস্পালয়ের মালিক মো: দিদার। ফেনী সদর উপজেলার মৌটবী ইউনিয়নের বাসিন্দা। দিদার সামান্য একজন ছোট নার্সারী ব্যবসায়ী থেকে গত ১৭ বছরের আওয়ামী সরকারের বিনাভোটের এমপি নিজাম হাজারীর অতি ঘনিষ্ঠ এবং ২০২৪ এর ৪ আগস্ট মহিপাল গণহত্যার অন্যতম মাষ্টার মাইন্ড, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীলের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে একজন চিহ্নিত ভূমি দস্যু হিসাবে। গড়ে তুলেছে এক অবৈধ জমি ক্রয় বিক্রয়ের সিন্ডিকেট। অভিযোগ রয়েছে শুসেন শীলের ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং অবৈধ অর্থে ফেনী শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রচুর জায়গা ক্রয় করেছে দিদারের নেতৃত্বাধীন এই ভূমি খেকো সিন্ডিকেট। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জায়গার মালিকদের পরিশোধ করা হয়নি জমির প্রকৃত মূল্য।

এই ভুক্ত ভূগিদের মধ্যে একজন হচ্ছে পূর্ব উকিল পাড়ার মুন্সী বাড়ী রোডের বাসিন্দা মিসেস জাহানারা হক। এছাড়া ২০২৪ এর ফ্যাসিষ্ট বিরোধী আন্দোলন শুরু হওয়ার পর দিদারের ফুলের দোকান হয়ে উঠে শুসেন চন্দ্র শীলের আন্দোলন দমানোর কমান্ড সেন্টার হিসাবে। এখানেই বসে আন্দোলন দমানোর জন্য বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিতেন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের। এমনকি ৪ আগস্ট ফেনী মহিপাল গণহত্যায় ব্যবহৃত অবৈধ অস্ত্র সমূহ প্রথমে এই দিদার পুষ্পালয়ে মজুদ করার কথা জানিয়েছে বেশ কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী। যার প্রতিক্রীয়ায় ৫ আগস্ট সরকার পতন হলে দিদারের দোকানে ভাংচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। এর পর কিছু দিনের জন্য আত্মগোপনে চলে যায় দিদার। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে এলে আবারো প্রকাশ্যে এসে ধিরে ধিরে পুরোনো রুপে ফিরে যায় সে। এ ব্যাপারে তাকে সহযোগিতা করে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংঘটনের অসাধু নেতা। অভিযোগ রয়েছে শুসেনের রেখে যাওয়া স্থাবর সম্পত্তি গুলো বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে দিদারের তত্বাবধানে। যেখান থেকে প্রাপ্ত অর্থ নিয়মিত পাচার হয়ে যাচ্ছে ভারতে পালিয়ে থাকা শুসেনের কাছে। যাহা আবার বিভিন্ন হাত ঘুরে পৌঁছে যাচ্ছে দেশে অবস্থারত ফ্যাসিষ্টদের দোষরদের কাছে। ব্যবহারিত হচ্ছে ফেনী তথা বাংলাদেশকে আবারো অস্থিতিশীল করার কাজে। ইসমাইল ও দিদারের যাবতীয় অর্থ যোগান দাতার মূল সহযোগি হিসেবে কাজ করছেন ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের জামাল মাস্টার (মোহরার)।